স্যামসাং গ্যালাক্সি A05s এর দাম কত

Samsung Galaxy A05s হলো স্যামসাং-এর বাজেট ফ্রেন্ডলি একটি স্মার্টফোন, যা ১৮ অক্টোবর ২০২৩ সালে বাজারে আসে। যারা কম বাজেটে ভালো ব্র্যান্ডের ফোন খুঁজছেন, তাদের জন্য এটি হতে পারে একটি ভালো অপশন। এই ফোনটিতে রয়েছে ৬.৭ ইঞ্চির বড় ফুল এইচডি+ ডিসপ্লে, শক্তিশালী ৫০ মেগাপিক্সেল মূল ক্যামেরা, এবং ৫০০০mAh ব্যাটারি। এছাড়াও এতে আছে ২৫ ওয়াট ফাস্ট চার্জিং সুবিধা, যা দ্রুত ফোন চার্জ করতে সাহায্য করে। ফোনটির দুটি ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া যায়—৪GB RAM ও ৬৪GB স্টোরেজ এবং ৬GB RAM ও ১২৮GB স্টোরেজ। দাম অনুযায়ী এর ফিচারগুলো বেশ ভালো এবং দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য এটি একটি নির্ভরযোগ্য ফোন হতে পারে।



স্যামসাং গ্যালাক্সি A05s এর দাম কত বাংলাদেশ

স্যামসাং গ্যালাক্সি A05s এই মোবাইলটি আশা করা যাচ্ছে, বাংলাদেশ মার্কেটে অফিসিয়াল ভাবে এর দাম ধরা হয়েছে ১৭,৫৯৯ টাকার মতো ।

Samsung Galaxy A05s ওভারভিউ

Samsung Galaxy A05s হলো স্যামসাং-এর একটি বাজেট রেঞ্জের স্মার্টফোন, যা ২০২৩ সালের ১৮ই অক্টোবর বাজারে আসে। যারা কম দামে ভালো ব্র্যান্ড, ভালো ক্যামেরা ও শক্তিশালী ব্যাটারির ফোন খুঁজছেন, তাদের জন্য এটি হতে পারে একটি দারুণ পছন্দ। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, প্রাথমিক ইউজার বা যারা দৈনন্দিন কাজের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য স্মার্টফোন চান – তাদের জন্য এটি একটি উপযুক্ত ডিভাইস।

এই ফোনটিতে রয়েছে ৬.৭ ইঞ্চির বড় Full HD+ (1080x2400p) রেজুলেশনের ডিসপ্লে, যেখানে আছে ৯০ হার্টজ রিফ্রেশ রেট। যার মানে স্ক্রলিং বা গেম খেলার সময় স্ক্রিন চলবে অনেক স্মুথভাবে। ডিসপ্লেটিতে আছে Widevine L1 সার্টিফিকেশন, যার মাধ্যমে ইউজাররা Netflix, YouTube-এর মতো প্ল্যাটফর্মে HD কনটেন্ট দেখতে পারবেন। Corning Gorilla Glass প্রটেকশন থাকায় স্ক্রিনটি হালকা স্ক্র্যাচ বা ছোটখাটো আঘাত থেকে কিছুটা সুরক্ষিত।

পারফরম্যান্সের দিক থেকে এতে আছে Qualcomm Snapdragon 680 প্রসেসর, যেটি ৬ ন্যানোমিটার প্রযুক্তিতে তৈরি। এটি শক্তিশালী ও পাওয়ার ইফিশিয়েন্ট, যার মাধ্যমে গেম খেলা, সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার, ভিডিও দেখা বা মাল্টিটাস্কিং করা যাবে সহজেই। ফোনটির দুটি ভ্যারিয়েন্ট রয়েছে — ৪GB RAM + ৬৪GB ROM (৳১৭,৫৯৯) এবং ৬GB RAM + ১২৮GB ROM (৳২৫,৯৯৯)। এছাড়া এতে মাইক্রোএসডি কার্ডের মাধ্যমে স্টোরেজ ১TB পর্যন্ত বাড়ানো যাবে।

ক্যামেরা বিভাগে, Samsung Galaxy A05s ফোনে রয়েছে তিনটি রিয়ার ক্যামেরা – ৫০ মেগাপিক্সেলের প্রাইমারি ক্যামেরা, ২ মেগাপিক্সেল ম্যাক্রো এবং ২ মেগাপিক্সেল ডেপথ সেন্সর। এতে ফেস ডিটেকশন, অটো ফোকাস, HDR মোড, ১০ গুণ ডিজিটাল জুমসহ বিভিন্ন ফিচার রয়েছে। সামনের দিকে আছে ১৩ মেগাপিক্সেলের ফ্রন্ট ক্যামেরা, যা ভিডিও কল বা সেলফির জন্য একেবারে উপযুক্ত। ভিডিও রেকর্ডিংয়ের ক্ষেত্রে আপনি 1080p রেজুলেশন পর্যন্ত ভিডিও তুলতে পারবেন।

ব্যাটারির দিক থেকেও ফোনটি বেশ চমৎকার। এতে আছে ৫০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি যা দীর্ঘ সময় ব্যাকআপ দেয়। সাথে থাকছে ২৫ ওয়াটের ফাস্ট চার্জিং সুবিধা, যার ফলে খুব দ্রুত চার্জ হবে ফোনটি। USB Type-C পোর্ট ব্যবহার করা হয়েছে চার্জ ও ডেটা ট্রান্সফারের জন্য।

ফোনটির ডিজাইনও আকর্ষণীয় ও সিম্পল। গ্লাস ফ্রন্ট, প্লাস্টিক ব্যাক এবং ফ্রেম নিয়ে তৈরি ফোনটির ওজন ১৯৪ গ্রাম, যা হাতে বেশ ভালো অনুভব দেয়। কালার অপশন হিসেবে পাওয়া যায় ব্ল্যাক, লাইট গ্রিন ও ভায়োলেট। সিকিউরিটির জন্য সাইড-মাউন্টেড ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর এবং ফেস আনলকের সুবিধা রয়েছে।

অন্যদিকে কানেক্টিভিটি ফিচার হিসেবে Wi-Fi 5, Bluetooth 5.1, ৪জি সাপোর্ট, VoLTE, A-GPS, NFC এবং ৩.৫ মিমি হেডফোন জ্যাকও রয়েছে। এছাড়াও Dolby Atmos সাউন্ড প্রযুক্তির মাধ্যমে আপনি পাবেন উন্নতমানের অডিও এক্সপেরিয়েন্স।

Samsung Galaxy A05s এর সম্পূর্ণ স্পেসিফিকেশন

বিভাগ বিবরণ
সাধারণ তথ্য
মডেল Samsung Galaxy A05s
ব্র্যান্ড Samsung
রিলিজ তারিখ ১৮ অক্টোবর ২০২৩
ডিভাইসের ধরন স্মার্টফোন
অবস্থা বাজারে উপলব্ধ
অপারেটিং সিস্টেম ও চিপসেট
অপারেটিং সিস্টেম Android 13
ইউজার ইন্টারফেস Samsung One UI
চিপসেট Qualcomm Snapdragon 680 (6nm)
প্রসেসর Octa-core (4x2.4 GHz Kryo 265 Gold & 4x1.9 GHz Kryo 265 Silver)
GPU Adreno 610
ডিসপ্লে
ডিসপ্লে টাইপ PLS LCD
স্ক্রিন সাইজ ৬.৭ ইঞ্চি (108.4 সেমি²)
রেজোলিউশন 1080 x 2400 পিক্সেল (FHD+)
পিক্সেল ডেনসিটি 393 ppi
রিফ্রেশ রেট ৯০ হার্টজ
অ্যাসপেক্ট রেশিও 20:9
উজ্জ্বলতা ৫০০ নিটস
সুরক্ষা Corning Gorilla Glass
ক্যামেরা
রিয়ার ক্যামেরা ট্রিপল: ৫০ MP (প্রধান), ২ MP (ম্যাক্রো), ২ MP (ডেপথ)
রিয়ার ক্যামেরা ফিচার LED ফ্ল্যাশ, HDR, টাচ টু ফোকাস, ফেস ডিটেকশন
ভিডিও রেকর্ডিং 1080p @ 60fps
ফ্রন্ট ক্যামেরা ১৩ MP (f/2.0)
ফ্রন্ট ভিডিও 1080p @ 30fps
মেমোরি
RAM ৪GB / ৬GB (LPDDR4X)
ROM ৬৪GB / ১২৮GB (eMMC 5.1)
মেমোরি কার্ড সাপোর্ট সর্বোচ্চ ১TB পর্যন্ত
USB OTG সাপোর্ট করে
ব্যাটারি ও চার্জিং
ব্যাটারি ক্যাপাসিটি ৫০০০ mAh
ব্যাটারির ধরন Li-Polymer (অপরিবর্তনযোগ্য)
চার্জিং ২৫W ফাস্ট চার্জিং
USB পোর্ট USB Type-C 2.0
নেটওয়ার্ক ও সংযোগ
সিম Dual SIM (Nano-SIM, Dual Stand-by)
নেটওয়ার্ক 2G, 3G, 4G (VoLTE সাপোর্ট)
Wi-Fi Wi-Fi 5 (802.11 a/b/g/n/ac)
Bluetooth v5.1
GPS A-GPS, Glonass
NFC আছে
অডিও জ্যাক ৩.৫ মিমি
ডিজাইন ও বডি
উচ্চতা ১৬৮ মিমি
প্রস্থ ৭৭.৮ মিমি
পুরুত্ব ৮.৮ মিমি
ওজন ১৯৪ গ্রাম
কাঠামো গ্লাস ফ্রন্ট, প্লাস্টিক ব্যাক ও ফ্রেম
রঙ ব্ল্যাক, লাইট গ্রিন, ভায়োলেট
সিকিউরিটি ও সেন্সর
ফিঙ্গারপ্রিন্ট সাইড-মাউন্টেড
ফেস আনলক সাপোর্ট করে
অন্যান্য সেন্সর লাইট সেন্সর, প্রক্সিমিটি, অ্যাক্সিলারোমিটার
অডিও ও মাল্টিমিডিয়া
স্পিকার লাউডস্পিকার
অডিও ফিচার Dolby Atmos
ভিডিও প্লেব্যাক 1080p@30fps
ডকুমেন্ট রিডার

ভালো দিক 

  1. বড় ও সুন্দর ডিসপ্লে:
    ৬.৭ ইঞ্চির Full HD+ ডিসপ্লে ও ৯০ হার্টজ রিফ্রেশ রেট — ভিডিও দেখা, সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রল বা গেম খেলার জন্য দারুণ।

  2. শক্তিশালী ব্যাটারি:
    ৫০০০mAh ব্যাটারি সহজেই একদিন বা তারও বেশি সময় চলতে পারে।

  3. ২৫W ফাস্ট চার্জিং:
    দ্রুত চার্জ হয়ে যায়, ব্যস্ত সময়ে সুবিধা দেয়।

  4. ৫০MP প্রাইমারি ক্যামেরা:
    ভালো আলোর মধ্যে ফটো তুলতে বেশ ভালো পারফরম্যান্স দেয়।

  5. Snapdragon 680 প্রসেসর:
    মিড রেঞ্জের জন্য ভালো পারফরম্যান্স — সাধারণ গেমিং ও মাল্টিটাস্কিং ঠিকভাবে চলে।

  6. One UI ও Android 13:
    Samsung-এর পরিচিত ও ইউজার-ফ্রেন্ডলি সফটওয়্যার অভিজ্ঞতা।

  7. ১TB পর্যন্ত স্টোরেজ বাড়ানো যায়:
    মাইক্রোএসডি কার্ড দিয়ে অনেক ফাইল, ভিডিও ও অ্যাপ সংরক্ষণ করা সম্ভব।

  8. সাইড-মাউন্টেড ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও ফেস আনলক:
    দ্রুত ও নিরাপদ আনলক সুবিধা।

  9. Dolby Atmos সাউন্ড:
    ইয়ারফোনে ভালো মানের অডিও এক্সপেরিয়েন্স দেয়।

দুর্বল দিক 

  1. AMOLED ডিসপ্লে নয়:
    PLS LCD ডিসপ্লে ব্যবহার করা হয়েছে, AMOLED হলে আরও প্রাণবন্ত কালার দেখা যেত।

  2. নাইট মোড/লো লাইট ক্যামেরা পারফরম্যান্স দুর্বল:
    কম আলোতে ক্যামেরা পারফর্মেন্স তুলনামূলকভাবে গড়পড়তা।

  3. ২ মেগাপিক্সেল ম্যাক্রো ও ডেপথ ক্যামেরা সীমিত কাজের:
    শুধু নামমাত্র ফিচার হিসেবে আছে, বাস্তব ব্যবহারে খুব একটা কার্যকর না।

  4. প্লাস্টিক বডি ও ব্যাক প্যানেল:
    দেখতে ভালো হলেও প্রিমিয়াম ফিল দেয় না এবং স্ক্র্যাচ পড়ার সম্ভাবনা বেশি।

  5. 4G পর্যন্ত সীমাবদ্ধ (5G নেই):
    ভবিষ্যতের জন্য 5G সাপোর্ট থাকলে ভালো হতো।

  6. নতুন গেম বা হেভি মাল্টিটাস্কিং-এ পারফরম্যান্স কিছুটা কমে যেতে পারে:
    Snapdragon 680 চিপসেট সাধারণ কাজের জন্য যথেষ্ট হলেও গেমিং গ্রাফিক্সে সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

ডিসপ্লে ও মাল্টিমিডিয়া অভিজ্ঞতা:

  • ফোনটির ৬.৭ ইঞ্চির বড় Full HD+ ডিসপ্লে এবং ৯০ হার্টজ রিফ্রেশ রেট থাকার কারণে স্ক্রল করা, ভিডিও দেখা বা অনলাইন ব্রাউজিং খুবই স্মুথ ও আরামদায়ক লাগবে।

  • Netflix বা YouTube-এ HD কনটেন্ট দেখতে পারবেন Widevine L1 সাপোর্টের কারণে।

  • Dolby Atmos সাউন্ড থাকায় ইয়ারফোন বা স্পিকারে মুভি বা গান শোনার অভিজ্ঞতা বেশ ভালো হবে।

ক্যামেরা ব্যবহার:

  • ৫০ মেগাপিক্সেল মেইন ক্যামেরা দিয়ে দিনের আলোতে ছবি তুললে ভালো ডিটেইল ও রঙ পাওয়া যাবে।

  • তবে রাত বা কম আলোতে ক্যামেরা পারফরম্যান্স কিছুটা দুর্বল হতে পারে।

  • ১৩MP ফ্রন্ট ক্যামেরা দিয়ে ভালো মানের সেলফি তোলা সম্ভব, ভিডিও কলেও মুখ পরিষ্কার দেখা যাবে।

পারফরম্যান্স ও গেমিং:

  • Snapdragon 680 চিপসেট সাধারণ কাজের জন্য যথেষ্ট — যেমন Facebook, YouTube, WhatsApp, Chrome ইত্যাদি।

  • হালকা থেকে মাঝারি মানের গেম (যেমন Free Fire, Subway Surfers) ভালোভাবে চলবে।

  • তবে হেভি গেম (যেমন PUBG, COD) খেলার সময় লো সেটিংসে খেলতে হতে পারে, মাঝে মাঝে ল্যাগ দেখা যেতে পারে।

ব্যাটারি ও চার্জিং অভিজ্ঞতা:

  • ৫০০০mAh ব্যাটারি থাকায় একবার চার্জ দিলে পুরো দিন ব্যবহার করা সম্ভব, এমনকি লাইট ইউজে দেড়-দু দিনও চলতে পারে।

  • ২৫W ফাস্ট চার্জিংয়ের কারণে ১ ঘণ্টার একটু বেশি সময়েই ফুল চার্জ হয়ে যেতে পারে।

সিকিউরিটি ও ইউজার ইন্টারফেস:

  • সাইড-মাউন্টেড ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর দ্রুত কাজ করে, ফেস আনলকও আছে — যা দৈনন্দিন ব্যবহারে সুবিধাজনক।

  • Samsung One UI অনেকেই পছন্দ করেন কারণ এটি সহজবোধ্য, ক্লিন এবং ফিচার-সমৃদ্ধ।

সাধারণ ইউজারদের জন্য অভিজ্ঞতা:

  • যেসব ব্যবহারকারী মূলত সোশ্যাল মিডিয়া, ইউটিউব, ছবি তোলা, অনলাইন ক্লাস/মিটিং ও সাধারণ গেম খেলেন — তাদের জন্য অভিজ্ঞতা ভালো হবে।

  • যারা প্রথম স্মার্টফোন ব্যবহার করছেন বা Samsung ব্র্যান্ডে আস্থা রাখেন — তারা এই ফোনটি ব্যবহার করে সন্তুষ্ট থাকবেন।

যাদের জন্য সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে:

  • যারা 5G ইন্টারনেট ব্যবহার করতে চান বা খুব হাই-এন্ড গেম খেলেন — তাদের জন্য এই ফোন কিছুটা কম পারফর্ম করতে পারে।

  • যারা প্রিমিয়াম ডিজাইন বা AMOLED ডিসপ্লের ফ্যান — তাদের চোখে এটি একটু সাধারণ মনে হতে পারে।

উপসংহার:

Samsung Galaxy A05s একটি বাজেট ফ্রেন্ডলি স্মার্টফোন, যা দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য যথেষ্ট উপযোগী। বড় ও সুন্দর ডিসপ্লে, ভালো ব্যাটারি ব্যাকআপ, সম্মানজনক ক্যামেরা পারফরম্যান্স এবং Samsung-এর নির্ভরযোগ্য সফটওয়্যার এক্সপেরিয়েন্স – সব মিলিয়ে এটি একটি ভারসাম্যপূর্ণ প্যাকেজ। যারা সাধ্যের মধ্যে ভালো ব্র্যান্ডের ফোন চান এবং সাধারণ ব্যবহার যেমন সোশ্যাল মিডিয়া, অনলাইন ক্লাস, ছবি তোলা বা ভিডিও দেখা করতে চান – তাদের জন্য এটি একটি ভালো পছন্দ হতে পারে।








Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url